লঞ্চ হতে চলেছে ৩৫০ স্পিড সহ ট্রায়াম্ফের ৬টি নতুন ৩৫০সিসি মোটরসাইকেল! বৈশিষ্ট্য ও দাম সম্পর্কে জানুন।

বর্তমানে বিভিন্ন মোটর সাইকেল কোম্পানি নিত্য নতুন অভিনব প্রযুক্তি সম্পন্ন মোটর সাইকেল লঞ্চ করে চলেছে। এরমধ্যে ব্রিটিশ মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্রায়াম্ফ লঞ্চ করতে চলেছে একসাথে ৬ টি অভিনব ফিচার সম্পন্ন মোটর সাইকেল। ৬ এপ্রিল লঞ্চ হবে ৬ টি নতুন ৩৫০সিসি মোটরসাইকেল। আপনিও যদি এই মুহূর্তে একটি নতুন ফিচার সম্পন্ন মোটর সাইকেল কেনার জন্য ভেবে থাকেন তাহলে এই ৬ টি নতুন মোটর সাইকেল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
বাজার মূল্য: ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন ডিলারশীপের তরফ থেকে অগ্রিম বুকিং নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেকটি নতুন লঞ্চ হওয়া বাইকের বাজার মূল্য এবং বৈশিষ্ট্য নিম্নে আলোচনা করা হলো।
অনেকেই মনে করতে পারেন ট্রায়াম্ফ প্রস্তুতকারক সংস্থা কেন একসঙ্গে ৪০০সিসি ইঞ্জিনের থেকে হঠাৎ করে ৩৫০ সিসি ইঞ্জিনের বাইক লঞ্চ করছে? তাদের জন্য এটাই বলার যে এর প্রধান কারণ সাম্প্রতিক সময়ের জিএসটি সংশোধন। সাম্প্রতিক সময়ে যখন জিএসটি সংশোধন করা হলো অর্থাৎ ভারতের ৩৫০ সিসির কম ইঞ্জিনের বাইক গুলোর জন্য ১৮ শতাংশ কর ধার্য করা হলো এবং 350 সিসির বেশি ইঞ্জিনের জন্য ৪০ শতাংশ পর ধার্য করা হলো। তাই কম করেওমর সুবিধা নেওয়ার জন্যই ট্রায়াম্ফ এবং অন্যান্য নামিদামিববাইক প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো ৩৫০ সিসির ইঞ্জিনের বাইক বাজারে লঞ্চ করার ভাবনা-চিন্তা করেছেন। আর এই নতুন লঞ্চ হওয়া মডেলের বাইকগুলোর দাম জিএসটি সংশোধনের জন্য ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দামে কিনতে পারবেন গ্রাহকরা। কিন্তু কম দাম হলেও প্রত্যেকটি বাইকের মধ্যে অভিনব বৈশিষ্ট্য গুলো বিদ্যমান থাকবে।
দেখে নেওয়া যাক নতুন ছয়টি লঞ্চ হওয়া মোটর বাইকেল বৈশিষ্ট্য ও বাজার মূল্য:
নতুন ৩৫০সিসি পাওয়ারপ্ল্যান্ট:
নতুন লঞ্চ হওয়া বাইকগুলোর প্রধান আকর্ষণ হল পাওয়ার প্লান্ট। এই বাইকগুলোর মধ্যে ৩৪৯ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার লিকুইড ইঞ্জিন। এই মোটর বাইকটি ৩৫ থেকে ৪০ ps শক্তি এবং ৩২ থেকে ৩৩ nm টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম।
১) ট্রায়াম্ফ স্পিড ৩৫০:
এটি একটি আধুনিক রেট্রো রোডস্টার স্টাইলের বাইক। বিশেষ করে নতুন জেনারেশন এর কাছে এই বাইকটির স্টাইল খুবই আকর্ষণীয় হবে। এই বাইকটির স্পিড রয়েছে ৩৫০। বাইকটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে মাসকুলার ট্যাংক, টেল সেকশন যথেষ্ট অভিনব করা হয়েছে।
দাম: বাইকটির দাম রাখা হয়েছে ২.৩৩ লক্ষ টাকা থেকে ২.৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে।
জানা যাচ্ছে এই বাইকটি রয়েল এনফিল্ড হান্টার 350 এবং হোল্ডা সিবি ৩৫০ এই দুটি বাইকের সাথে প্রতিযোগিতায় নামবে। আপনি যদি আধুনিক স্টাইলের সাথে অভিনব ফিচারসম্পন্ন বাইক ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা কমে পেতে চান তাহলে বাইকটি আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন।
২) ট্রায়াম্ফ স্পিড টি৪ ৩৫০সিসি:
ইঞ্জিন: এই বাইকের ইঞ্জিন ৩৯৮.১৫ সিসি, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুল ধরনের। এই বাইকটি
প্রায় ৩০.৬ bhp (৩১ PS) এবং ৩৬ Nm টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। এর ফলে শহরের যানজটে আরামদায়ক রাইডিং অনুভূতি পাওয়া যাবে।
ডিজাইন ও সাসপেনশন: বাইকটির ডিজাইন আধুনিক প্যাটার্নের করা হয়েছে। বাইকের সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে মোনোশক সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে।
অভিনব ফিচার: বাইকের অভিনব ফিচার গুলোর মধ্যে রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, স্লিফার ক্লাচ, এবং ABS রয়েছে। তবে এই বাইকে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল নেই।
মাইলেজ: বাইকটি প্রায় ৩০ কিমি/লিটার বা তার বেশি মাইলেজ দিতে সক্ষ।
মূল্য: বর্তমানে স্পিড টি৪-এর দাম রয়েছে ১.৯৫ লক্ষ টাকা। ইঞ্জিনের আকার কমানো হলে এর দাম কমে যাবে ২০,০০০–২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
৩) ট্রায়াম্ফ থ্রাক্সটন ৩৫০:
এই মোটরসাইকেলটি ক্লাসিক ক্যাফে রেসার ডিজাইন করা হয়েছে, এটি নতুন প্রজন্ম এবং পুরাতন প্রজন্ম সবাইকেই আকৃষ্ট করবে।
ইঞ্জিন: ৩৫০cc-এর নতুন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যান্য ফিচার: ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার, একক আসন এবং স্পোর্টি ক্যাফে রেসার লুক এই বাইকটির অন্যতম মাত্রা এনেছে।
পারফরম্যান্স: শহরে এবং হাইওয়েতে চমৎকার পারফরম্যান্স দেবে।
টেকনোলজি: ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ডুয়াল-চ্যানেল ABS, এবং স্মুথ গিয়ারবক্স এই বাইকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
বাইকটি রয়েল এনফিল্ড ইন্টার সেপ্টর ৩৫০ এবং হোল্ডার সিবি ৩৫০ এর সাথে প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে।
মূল্য: আসন্ন থ্রাক্সটনটির দাম ২.৫ লক্ষ থেকে ২.৬ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে।
৪) ট্রায়াম্ফ স্ক্র্যাম্বলার ৩৫০ এক্স:
ইঞ্জিন: এই বাইকের মধ্যে ৩৫০ সিসি – ৪০০ সিসি এর মধ্যে একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটি ট্রায়াম্ফ এবং বাজাজের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
বৈশিষ্ট: এই বাইকের ডিজাইন Scrambler 400 X-এর মতন কিছুটা করা হতে পারে। বাইকের মধ্যে ভালো গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, অফ-রোড ক্ষমতা, এবং আরামদায়ক রাইডিং পজিশন থাকার কথা রয়েছে।
রয়েল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ এবং ক্লাসিক ৩৫০ এর সাথে প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে বাইকটি।
মূল্য: স্ক্র্যাম্বলার এর দাম হতে পারে ২.৪৫ লক্ষ থেকে ২.৫৫ লক্ষ টাকার মধ্যে।
৫) ট্রায়াম্ফ স্ক্র্যাম্বলার এক্সসি ৩৫০:
ইঞ্জিন: বাইকটিতে ইঞ্জিন দেওয়া হয়েছে ৩৬০-৪০-এর থেকে কিছুটা ছোট ধরনের।
ডিজাইন: বাইকটির মধ্যে রাউন্ড এলইডি হেডল্যাম্প, চওড়া হ্যান্ডেলবার, হাই-মাউন্টেড এক্সহসট দেওয়া হয়েছে।
অভিনব ফিচার্স: স্পোক হুইল, ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, এবং উন্নত অফ-রোড এবিলিটি উন্নত করা হয়েছে।
সাসপেনশন ও ব্রেকিং: সামনে ও পেছনে ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে, এরসাথে এবিএস (ABS) ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে।
মূল্য: এই বাইকের দাম হতে পারে প্রায় ২.৬ লাখ থেকে ২.৮ লাখ টাকা।
৬) ট্রায়াম্ফ ট্র্যাকার ৩৫০:
ইঞ্জিন: এই বাইকে নতুন ৩৫০ সিসি, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্টাইল: বাইকের ডিজাইন করা হয়েছে ফ্ল্যাট-ট্র্যাকার ধরনের।
ফিচার: ফুল-এলইডি লাইটিং, সেমি-ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট কনসোল, রাইড-বাই-ওয়্যার এবং স্লিপ-এন্ড-অ্যাসিস্ট ক্লাচ দেওয়া হয়েছে।
বাইকটি রয়্যাল এনফিল্ড ক্লাসিক ৩৫০, হোন্ডা CB350 এবং জাভা ৩৫০ এর সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
মূল্য: বাইকটির দাম ২.১৫ লক্ষ থেকে ২.২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এইখানে ট্রায়াম্ফের ৬টি নতুন আসন্ন মোটর সাইকেলের বৈশিষ্ট্য এবং দাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আপনি যদি এর মধ্যে থেকে যেকোনো একটি কিন্তু ইচ্ছুক থাকেন তাহলে অগ্রিম বুকিং করতে পারেন। প্রত্যেকটি বাইক 15 থেকে 30 হাজার টাকা কমে আপনি পেয়ে যাবেন অভিনব বৈশিষ্ট্যের সাথে।




